Showing posts with label অর্থহীন প্রলাপগুচ্ছ. Show all posts
Showing posts with label অর্থহীন প্রলাপগুচ্ছ. Show all posts

Saturday, 1 May 2021

বঙ্গ-যুদ্ধের দায়

ছোটবেলায় বায়না করে ফুটের দোকান থেকে একখানা ছবিতে মহাভারত কিনেছিলাম। সাধারণত খুবই নিম্নমানের পাতা আর বাঁধাই, ছবিও অপটু হাতে আঁকা। দশ-বিশ টাকায় পাওয়া যেত বলে বাড়ির লোক কিনে দিতে দ্বিধা করেনি। সেই প্রথম মহাভারত পড়া, তার আগে কিছু ছোট ছোট গল্প জানতাম। ছবিগুলো খুব ভাল না হলেও প্রথম পড়া তোহ, তাই মনে দাগ কেটে গেছিল। তাই পরে রাজশেখর বসু বা কালীপ্রসন্নের মহাভারত পড়ার সময়ও কল্পনায় ওই ছবি গুলো ভেসে উঠত। বইটায় স্ত্রী পর্বে একটা ছবি ছিল, অষ্টাদশ দিনের যুদ্ধের শেষে সমস্ত শব সৎকার করা হচ্ছে, গণচিতার ধোঁয়া আকাশ গ্রাস করেছে।  কেন জানিনা ছবিটা বহুদিন মনে রয়ে গেছিল। তবে সময়ের সময়ের সাথে তা মুছেও যেতে বসেছিল।

কদিন আগে গণচিতা জ্বালানোর ছবি দেখে মহাভারতের সেই ছবির কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ।

কথায় আছে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। এক পারিবারিক বিবাদ থেকে আঠারো অক্ষৌহিণী সেনার প্রাণ গেল।

কদিন আগে রাজ্যজুড়ে আঠারো না হোক আট দফায় যুদ্ধ হয়ে গেল, কত রথী মহারথী লড়েলেন, কত বাদবিবাদ, কত হইচই। অনেকের কাছে এ যুদ্ধ ভারত যুদ্ধের মতই গুরুত্বপূর্ণ। যে যার মত করে ভাবছে, সে সঠিক পথে আছে। জয় কার হবে তা সময়ই বলবে। কিন্তু এই যুদ্ধের ফলে সংক্রমণ যে বাড়ল, কত মানুষের জীবন জীবিকা আবার বিপদের সম্মুখীন হল, তার দায় নেবে কে? না কি সবই ওই আনুসাঙ্গিক ক্ষতি, মার্কিনী পরিভাষায় যাকে বলে – collateral damage।


এ যুদ্ধ শেষেও কত গণচিতা উঠবে তার ইয়ত্তা নেই। ভারত যুদ্ধের শেষেও যুদ্ধক্ষেত্র পুরনারীদের হাহাকারে ভরে উঠেছিল – এখনও চারিদিকে হাহাকার উঠছে, অক্সিজেন, বেড, ওষুধের জন্য।

আমি নেহাতই ছাপোষা মানুষ, নির্বাক দর্শক হওয়া ছাড়া কিছু করার নেই। তবে ভারত-যুদ্ধে সব মৃত্যুর দায় নিয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তিনি কোন প্রতক্ষ্য হত্যা করেননি কিন্তু তিনিই যুদ্ধের মূল কুশলী ছিলেন, তাই নিজের নৈতিকতার দিক দিয়ে পাপের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নেন। পণ্ডিত লোকেরা বলেন এই কারণেই তিনি ভগবান। আবার কেউ কেউ বলেন ভারতভূমি কাউকেই ছাড়ে না, সবাইকে তার পাপের উপলব্ধি করিয়ে দেয়, ভগবান কৃষ্ণ থেকে যুধিষ্ঠির, কেউ ছাড় পাননি। তবে সে তোহ পুরাণের গল্প।

তবে আজ প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, এখনকার এই যুদ্ধের ফলস্বরূপ এত মৃত্যুর দায় কে নেবেন? কে তুলে নেবেন পাপের বোঝা?

ভারতযুদ্ধের মূল কৌশলী সেই দায় নিয়েছিলেন, আজকের দিনে একজন কোন কৌশলী নেই, সব দলেই একাধিক লোক। তবুও সংবাদমাধ্যম কাউকে কাউকে চাণক্য বানিয়ে দেয়। তারাও কি এই বঙ্গ-যুদ্ধের দায় নেবেন?




Friday, 25 December 2020

লাইফ @ তেলেনাপোতা

আমরা যখন ইলেভেন পড়ি, তার ঠিক দুবছর আগে আমাদের বোর্ডের সিলেবাস পরিবর্তন হয়। আমরা ছিলাম নতুন সিলেবাসে উচ্চমাধ্যমিক দেওয়া তৃতীয় ব্যাচ, আমাদের আগে আরও দুটো ছিল। আসলে তখন জমানা পাল্টে ছিল, তাই পুরানো নীতি আদর্শ থেকে সবকিছুর শুদ্ধিকরণ করে নতুনের জন্য তৈরি করে নিতে হবে বইকি। তাই সব্বার আগে শিক্ষায় সংস্কার জরুরি। 

আমি ছিলাম সায়েন্সের ছাত্র, তা বিজ্ঞানের নিয়ম তোহ আর চাইলেই বদলানো যায় না, তাই পরিবর্তনের আঁচ আমাদের বেলায় ওই বাংলা আর ইংরেজিতে এসেই সীমাবদ্ধ ছিল। আমরা বাংলা মিডিয়ামের ছেলেমেয়েরা, ইংরেজিতে শিখি ল্যাংগুয়েজ মানে ভাষা, আর বাংলায় শিখি সাহিত্য। আমার আবার বরাবর গল্প কবিতা পড়তে বেশ লাগে, তাই বাংলা বই খানা বেশ পছন্দ হয়েছিল। সরকার বাহাদুরের অনুপ্রাণিত পন্ডিতেরা বই খানা সাজিয়ে ছিল খাসা, তবে একটাই ব্যাপার বাংলা বইখানা পড়লে মনে হত, যে সেটা পুরানো জমানার থেকেও আরও বেশি করে পুরনো আদর্শের পন্থী। গল্প কবিতা চয়নে তার ছাপ স্পষ্ট।

তা সে যাই হোক, আমার নীতি আদর্শ নিয়ে কি কাজ, ওসব ধুয়ে নেতারা জল খেয়ে থাকেন, আমার তোহ গল্প হলেই চলবে। তোহ হয়েছে কি, এরমই এক গল্প ছিল 'তেলেনাপোতা আবিস্কার।' এ গল্পের মতো বদখত গল্প আর পড়িনি মশাই, নামটাই কি অদ্ভুত। আমরা, বন্ধুরা প্রথম প্রথম বিস্তর হাসাহাসি করেছি এ নিয়ে। লেখকের নাম প্রেমেন্দ্র মিত্র দেখে ভেবেছিলাম হয়ত 'তেল দেবেন ঘনাদা'-র স্পিন অফ বা সিক্যুয়েল গোছের কিছু হবে। পড়তে গিয়ে দেখি, ধুর ঘনাদা তোহ নয়ই, উপরন্তু গল্পের ভাষাও কেমন ধারা। লেখক ক্রমাগত পাঠক কে বলছেন - এই ধরুন আপনি এখানে গেলেন, এটা করলেন, ওটা করলেন। আরে বাবা সবই যদি আমি করি তাহলে লেখক কিংবা গল্পের চরিত্র কি করবে। 

 

আসলে এ ছিল আমার জীবনে পড়া প্রথম গল্প যা কি না মধ্যম পুরুষে লেখা। বাংলার স্যার যখন গল্পটা বুঝিয়ে দেন তখন থেকে গোটা ধারণাটাই পাল্টে যায়। আসলে সবার জীবনেই কোথাও না কোথাও একটা তেলেনাপোতা আছে, কেউ সেখানে যেতে পারে আর বাকিদের কাছে তা স্বপ্নই থেকে যায়। 

 

আমাদের চারপাশে ঘটে চলে কত কি ঘটনা, আর শুধু চারপাশই বা কেন, ইতিহাসেও তোহ কত ঘটনার ঘনঘটা। এর মধ্যে কিছু ঘটনা আমাদের ভাল লাগে, কিছু রোমাঞ্চ দেয়, আবার কিছু ঘটনা মনটাকে ভাবিয়ে দেয়, দুঃখ দেয়। তবে সময় সময় মনে হয়, আচ্ছা এমন যদি হত, আমার সাথে এর মধ্যে একটা কিছু ঘটত, তাহলে বেশ হত না! কিন্তু ওই, সকলই মায়া, তুমি দেখবে তোমার পাশে ঘটছে, তোমার কান ছুঁয়ে হয়ত বেরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তোমার সাথে ঘটছে না। এজন্যই বলে, কপালের নাম গোপাল।

জানিনা না কার সাথে এমন হয়, আমার সাথে বারবার এরকম হয়, 'এই যাঃ ফস্কে গেল'। কিন্তু কি আর করা যাবে। 

তবুও মনের কোণে একটা আশা থাকে একদিন হবে, কিছু একটা হবে। যাতে মনে হবে, হ্যাঁ কিছু একখানা করেছি। একখানা আত্মতৃপ্তির নেশায় মনখানা ভরে যাবে, তারপর যতই দুঃখ হোক, একটা কিছু দিয়ে ভোলানো যাবে। মনে হবে না জীবনখানা বৃথা গেল। 

না, কাউকে কৈফিয়ত দিতে হবে না, অন্তত পক্ষে নিজের কাছে নিজেকে খুশি করলেই চলবে। এরম কি মনে হয় না?

অনেক সময় স্বপ্ন দেখতে দেখতে এমন হয়, যে বাস্তব আর স্বপ্ন মিলেমিশে যায়। ফারাক করা মুশকিল। একা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়, কি একা একা বিছানায় শুয়ে থাকার সময়, সে স্বপ্ন আমাদের কাছে আসে, এসে গল্প করে, সুখদুঃখের কথা বলে। সে জিনিসের সাথে এমন বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, এতবার তাকে দেখি, তাই স্বপ্ন বলে তাকে আর মনেই হয় না। মনে হয় এই তোহ সেদিন কথা হল। কেউ না থাক, আমার মনের কথা আমার স্বপ্ন শুনবে। 

কেউই জানিনা, সে স্বপ্ন সফল হবে কি না, তবে ভাবতে দোষ কি! ভাবার ওপর তোহ কেউ ট্যাক্স বসায়নি, আর সমনও জারি করেনি। হয়ত যারা খুব বাস্তববাদী, তারা এসব ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেবে, বলবে অলীক কল্পনা। তাতে কি, সে তোহ আমার কল্পনা। কার কি এসে গেল তাতে। মাঝে মাঝে ভাবনার সাগরে ডুব দিয়ে দেখো, মন্দ লাগবে না। চিন্তা নেই, ডুবে তুমি যাবে না, কারণ এই বাস্তব পৃথিবী তোমায় ডুবতে দিচ্ছে না, সে ঠিক ঘাড় ধরে টেনে আনবে। কিন্তু তবুও যতক্ষণ ডুবে থাকা যায়, মন্দ কি। তখন মনে হবে, এই বেশ ভাল আছি। 

ওই বলে না পুজোর থেকে পুজো আসছে আসছেটা বেশি ভাল, তেমনই হয়ত স্বপ্ন পূরণের থেকে স্বপ্ন নিয়ে বাঁচাটা মনে হয় বেশি আনন্দের। তাই আমার কাছে আমার তেলেনাপোতার জীবন খানা বেশ লাগে। মাঝে মধ্যে ঘুরে আসি। তোমরাও যাও, দেখবে বড্ড ভাল লাগবে। 

 


Friday, 21 February 2020

পাপ ও এনার্জি

অনেকদিন ধরেই কথাখান মনের মধ্যে সুড়সুড়ি দিচ্ছিল, যে ভাল মানুষ, ভাল সংস্থা, ভাল দল কাকে বলে। ভালত্বের মাপকাঠি কি? আসলে ভাবনার শুরুটা ভারতের রাজনৈতিক দল গুলো ও রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গ নিয়ে। সচরাচর কোন রাজ্যে বা দেশে ক্ষমতাসীন শাসক দলের নিন্দেমন্দ অহরহ শোনা যায়। ভাল করে ভেবে দেখুন প্রতিটা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কোন না কোন গুরুতর অভিযোগ আছে, রক্তে হাত রাঙানোর ইতিহাস আছে, যেমন বিজেপির গোধরা, কংগ্রেসের শিখ দাঙ্গা, সিপিএমএর মরিচঝাঁপি ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ একটা ব্যাপার পষ্ট সমস্ত পোলিটিক্যাল পার্টির হাতেই রক্ত আছে। এখন পার্টির সমর্থকরা হয় ব্যাপারটা জানেন না অথবা ওই পাস্ট জেনেও অন্ধ ভাবে ভালবাসে ( অনেক খানি এরকম, I don't bother about your past)। 
কিন্তু এত গেল সমর্থকদের কথা, কিন্ত সাধারণ জনগণ যখন পোলিং বুথে যান তখন ঠিক কি ভেবে ভোট দেন ? কারণ আপনি রাস্তায় ভাল করে কান পাতলে এটুকু বুঝবেন তারা এটা ভাল করে জানে প্রতিটা রাজনৈতিক দলের কমবেশী অধিকাংশ নেতা চোর-চোট্টা ও বদমাইশ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির সাপেক্ষে যাকে তার কম খারাপ মনে হয় তাকেই হয়ত ভোটটা দেয়। আর এই কারনেই সরকার পরিবর্তন হয়, কারণ সময়ে সময়ে প্রতিটা রাজনৈতিক দলের মূল্যায়ন বদলায় সাধারণ মানুষের চোখে। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমার আগ্রহ জাগে এই মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে। বড় বড় ইন্টেলেকচুয়ালরা যতই এই ভারতবাসীকে অজ্ঞ মনে করুক, তা আসলে নয়। কমবেশি সবাই ভাবে। 
আগেই বললাম ভাল খারাপের বিষয়টা সময়ে সময়ে  পরিবর্তন হয় এবং এটা আপেক্ষিকও বটে।আচ্ছা বলুন তো কোন জিনিস ঠান্ডা বা গরম বোঝান কি করে, মানে এক টুকরো বরফ এর থেকে আপনার শরীরের তাপমান গরম আবার আগুনের শিখার থেকে ঠান্ডা। অনেক সময় আমরা মিনারেল ওয়াটার কিনতে গিয়ে বলি, 'ঠান্ডা নয়, নরমালটা দেবেন'। নরমাল মানে স্বাভাবিক, এখন আমরা মোটামুটি স্বাভাবিক বলি ওই ধরুন 20-30℃ জলকে। আবার যে টেম্পারেচার এর জল আমরা সাধারণ বলি সেই টেম্পারেচার এর চা কেই আমরা বলি ঠান্ডা হয়ে গেছে। 
মানুষের পাপ পুণ্যটাও এভাবে নির্ভর করে। এখন দেখুন পৃথিবীতে পাপহীন মানুষ হয় না, খুঁজে পাবেন না, বুকে হাত দিয়ে বলুন আপনি কোনদিন কোন অন্যায় করেননি। পারবেন? মনে তো হয়না। 
আসলে পাপহীন মানুষ পরম শূন্য তাপমাত্রার মতো, যেখানে এনার্জি শূন্যের কাছেই। প্রতিটি ধাপে এনার্জি নিতে নিতে তাপমাত্রা বাড়ে। আর এই এনার্জি এমনি এমনি বাড়ে না, কোন ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া করতে হয় সেই বস্তুকে, তবেই সেই বস্তু এনার্জি লাভ করে। এখন পাপও সেরকম, সমাজে চলতে গেলে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় পাপের পরিমাণ বাড়ে। 
এখন যখন এনার্জি যদি একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত যায়, তখন তার তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে সাধারণ তাপমাত্রায় পৌঁছবে। কিন্তু তার পরও যদি সে এনার্জি নেয়, তাপমাত্রা আরও বাড়বে। আর তাকেই আমরা গরম বা উচ্চ তাপমাত্রা বলি। 
এখন জীবনে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে গিয়ে আমরা কিছু পাপ কাজ করি। তাতেই আমরা সাধারণ মানুষের স্তরে আসি। এখন অনেক সময় দেখা যায়, আমরা সৎ লোককে বোকা বলে থাকি, বুদ্ধি করে ঠিক সময় আখের গোছাতে পারিনি বলে। আসলে সে ওই পাপ গুলো করে সাধারণ এর থেকে জাতে উঠতে পারেনি। আবার অত্যধিক পাপ করলে সে সাধারণ এর জাত থেকে বিচ্যুত হয়।
মজার ব্যাপার হলো একই পরিমাণ এনার্জি নিলে সমস্ত বস্তুর একই পরিমাণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি হয় না। তার ভর বা mass যদি বেশি হয়, তাহলে দেখব তাপমাত্রা বৃদ্ধি কম হচ্ছে। তেমনই সমাজে একই অন্যায় করে বড় মানুষের পাপ কম হয় কিন্তু ছোট মানুষের পাপ বেশি হয়। 
আবার ওই যে বললাম একই তাপমাত্রার জলকে সাধারণ কিন্তু চা কে ঠান্ডা বলি। তেমনই একই পাপ করে একজন শিল্পপতি যতটা ছাড় পান একজন অধ্যাপক বা অধ্যাপিকা নন। 
আগে আমরা জানতাম পরম শূন্য তাপমাত্রায় এনার্জি শূন্য, পরে গিয়ে জানলাম কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর মতে পরম শূন্যতেও কিছু এনার্জি থাকে। ঠিক যেমন আমরা জানতাম যুধিষ্ঠির সত্য কথা বলেন, কিন্তু তারও রথের চাকা মাটি ছুঁল।

মোদ্দা কথা এই যে পাপ একটা সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু অত্যাধিক পাপ সাধারণ নয়, তা ক্ষতিকারক।
তাই মানুষ বিচার করার আগে তার একটি পাপ দেখে বিচার করা যায় না, বরফ থেকেও ধোঁয়া ওঠে, গরম জল থেকেও ওঠে, কিন্তু দুটোর তাপমাত্রা তো এক নয়। 
হয়ত বা এই ওপরের কথা গুলো নিতান্ত ভাট বকা বা আমার অর্থহীন কল্পনা। কিন্তু আপনি এতক্ষণ ধরে এই পাগলের প্রলাপ পড়লেন তার ধন্যবাদ দিয়ে আপনাকে ছোট করব না।
তবুও বলব কোথাও একটা এক সমান্তরাল সম্পর্কে আছে - পাপ ও এনার্জি। 

Friday, 1 November 2019

লুকোনো থাকা প্রতিভাগুলো

কদিন আগে আমার এক বন্ধুর সাথে আমার জোর তর্ক হচ্ছিল, প্রতিভা বলে কি কিছু হয়? যার জোরে কোন লোক সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠে। না কি পুরোটাই নিয়মনিষ্ঠ অনুশীলনের ফলে? আমার মত ছিল ট্যালেন্ট বলে কিছু আছে, যার মাধ্যমে কোন কাজে কেউ অনায়াসে নিপুণ হযে ওঠে, আর যার তা নেই, সে নিপুণ হয়ে উঠে কঠিন আয়াসে। তো সে বির্তক সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ হয়নি। তাই দুজনের মনের ভাব ও পুরোটা প্রকাশ হয়নি, তো কোন কনক্লুশনেও আসতে পারিনি।
আসলে সময়ের অভাবে এরম অনেক আপাত অদরকারী অথচ মূল্যবান বিতর্ক বা আলোচনা থেমে যায়। তেমনই এই দৌড়ে অনেকের সুপ্ত প্রতিভা চাপা পড়ে যায় বা টিমটিম করে জীবনের কোন খুব নরম কোনে, খুব যত্ন করে কেউ বাঁচিয়ে রাখে সেই প্রতিভার ছটাকে। তার বিচ্ছুরিত আলোর প্রকাশ মাঝে মধ্যে দেখি তাদের সাজানো নোটবুকে, হোয়াটস্যাপ স্ট্যাটাসে বা ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মঞ্চে। অনেক ক্ষেত্রে দেখি সেই প্রতিভা প্রথাগত শিল্পীদের তুলনায় অনেক ভালো। যেন মনে করলেই সে শিল্পী হতে পারত, শিল্পকে জীবনের পাথেয় করে এগিয়ে যেতে পারত, কিন্তু যায়নি। প্রশ্ন হয়, কেন যায়নি ? 
এদের মধ্যে কেউ হয়ত, সাহস করে উঠতে পারেনি।
আসলে আমাদের সমাজে ভাল লাগার থেকে ভাল থাকার জন্য বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু অর্থের নিরিখে মাপা সেই ভাল থাকা, আদেও ভাল থাকা হয়ে ওঠে না। আবার অনেকের ক্ষেত্রে, তারা দুদিকেই পারঙ্গম। তাই যেটা বেশি ভাল লাগছে সেটাই করছে।
আসলে সমাজকে দোষ দেওয়াটাও বোধ হয় ঠিক না। কারন অনেক ক্ষেত্রেই,  ওই শিল্প কোন অপেশাদার শিল্পীকে একটা স্ট্রেস রিলিফের মতো কাজ দেয়। সেক্ষেত্রে শিল্প যদি তার পেশা হত, তাহলে সেটাই হতো তার কাছে স্ট্রেসফুল। তার থেকে বরং মনের এক কোনায়, সন্তর্পনে শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা ভাল।
তবে সব চেয়ে অবাক হই, সেইসব লোককে দেখে, যে বন্ধুকে অনেকদিন ধরে চিনি, তার কোন সুপ্ত গুনকেই জানতাম না। হঠাৎ দেখে চমকে উঠি। 
আসলে মানুষের মধ্যে এই রকম গুণের বাহার থাকলে তবেই মনে হয় সম্পূর্ণ। তাতে হয়ত জীবনটা রঙিনও হয়।
অপেশাদার বা অ্যামেচার শিল্পের মজাই আলাদা।
তা যেন অনেক বেশি রঙিন, আর অনেক বেশি আনন্দদায়ক, সৃষ্টিকর্তা ও উপভোগকারী দুজনের কাছেই।
কাজের ফাঁকে সময় বাঁচিয়ে একটু ছবি আঁকা, গান গাইতে পারা বা লেখালিখি বা অন্য যে কোন কিছু। এতেই তো মনে হয় আনন্দ, বেঁচে থাকার আসল মানে। হোক না কিছু এমনি এমনি, সব কিছু জাগতিক প্রয়োজনের তাগিদে হবে তার কি মানে? 
হোক না আমরা সবাই সেই ভুল স্বর্গের বাদিন্দা, যেখানে নিয়মের বাইরেও কিছু হয়, প্রয়োজনের বাইরেও হয়।
এইভাবেই যেন চলুক সব কিছু।
এই তো জীবন। 

Wednesday, 20 June 2018

আমার ডোরেমন চাই




বহুদিন আগের কথা। তখন খুবই ছোট। ক্লাস টু কিম্বা থ্রিতে পড়ি। আমাদের বাড়ির পুরানো টিভির বদলে একটা নতুন টিভি কেনা হয়েছিল। তাছাড়া আগের টিভিটা এমনিতেই খারাপ হয়ে গেছিল। নতুন টিভি আসতেই আমার আর আনন্দ ধরে না। আগের টিভিটায় অনেক কম চ্যানেল আসত। এটায় অনেক বেশি। তখনও ডিশ বা সেটটপ বক্সের যুগ আসেনি। ফলত আজকের মত হাজারখানা চ্যানেল ছিল না, কিন্তু যা আসত তা অনেক। ধীরে ধীরে ডিসনি, পোগো, কার্টুন নেটওয়ার্কের সাথে পরিচয় হয়েছিল। খুলে গেছিল এক অবাক দুনিয়া।
যারা নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে জন্মেছে তারা ব্যাপারটা ভাল বুঝবে। আসলে মুক্ত অর্থনীতির হাওয়া আর প্রযুক্তি বিপ্লবের ছোঁয়া সবে লাগতে শুরু করেছে আমাদের দেশে। টেলিভিশন ছিল তখন প্রধান বিনোদন। তো সেই কল্পনার দুনিয়ায় চিরকালীন টম অ্যান্ড জেরি ছাড়াও আরও এমন অনেক কার্টুন ছিল যা আজ আর সেরকম দেখতে পাওয়া যায় না। এর মধ্যে ছিল অসওয়াল্ড, নডি।
মনে আছে একদিন ডিসনি দেখতে দেখতে একটা কার্টুনের সন্ধান পাই। আগে অ্যাড দেখাতো দেখতাম, কিন্তু তার আগে কোনদিন দেখা হয়ে ওঠেনি। গল্পটা বেশ অদ্ভুত, একটা বাচ্চা ছেলে সে খালি সমস্যায় পড়ে, সে দুর্বল। আর তাকে সাহায্য করে এক ভবিষ্যতের এক রোবট। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন ডোরেমন। কেন জানিনা অল্পদিনের মধ্যেই কার্টুনটা বেশ পছন্দের হয়ে উঠেছিল। হয়তো কোথাও আমরাও নিজেদের জীবনে নবিতার মতোই। হ্যাঁ হয়তো আমরা ওর মতো অতটা বোকা নই, কিন্তু কোথাও আমরাও নিজেকে অনেকটা অসহায় মনে করি। সত্যি যদি এই রকম কেউ একটা ত্রাতা থাকত। আজ জানি এটা সম্ভব নয়, কিন্তু ভাবতে বড় ভাল লাগে। হয়তো আমাদের প্রত্যেকের জীবনের অপূর্ণ স্বাদগুলো পূরণ করতে এই রকম একটা কেউ এলে ভাল হত। সত্যিই তো কত স্বাদ অপূর্ণ থেকে যায়। অনেক সময় সেগুলো চাপা পড়ে যায় কিম্বা জীবনে চলেতে গেলে চাপা দিয়ে রাখতে হয়। হয়তো সে ইচ্ছা গুলো বড় তুচ্ছ, কিন্তু সেই মুহূর্তে ওগুলোই ছিল সোনার চেয়ে দামি। আর কোনদিন হয়তো সেগুলো পূরণ হবেনা। কত অপূর্ণ স্বাদ মনে পড়ে, সেই সুন্দর দেখতে রঙ পেন্সিলের বাক্স বা সেই মজার কমিক্সটা, দোকানে দেখেছিলাম, কিন্তু কোন কারণে কেনা আর হয়নি। আজও থেকে যায় অনেক ইচ্ছা মনের গভীর স্থানে। কোন এইরকম বন্ধু পেলে হত যে পূরণ  করতো  এইসব ইচ্ছা। আজও বড় হয়ে মনে হয়, ওই দিন গুলোতে ফিরে যাই। যদি পেতাম ডোরেমনের টাইম মেশিনটা। 
জীবনের সমস্যায় আজও পড়ি, ভবিষ্যতেও পড়ব। কিন্তু সে সমস্যা থেকে মনে মনে একটু হাঁপ ছেড়ে বাঁচা যায়, যখন সেই ছোট বেলার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। আসলে আমরা প্রতেকেই বাঁচি সেই শৈশব স্মৃতির অন্বেষণ করে। এই শৈশব স্মৃতিটায় হয়তো ডোরেমন, যা ক্ষণিকের জন্য হলেও বাস্তবটাকে ভুলিয়ে মনটাকে ভাল রাখে, শক্তি যোগায় আবার নতুন করে কাজে ঝাঁপানোর। ডোরেমন কোনদিন হারতে শেখায়নি। শত বিপদের মধ্যেও নবিতাকে সে বাঁচতে শিখিয়েছে। আমাদের দেশ ভারতবর্ষ, অমর্ত্য সেন বলেছেন ফার্স্ট বয়দের দেশ। যেখানে সব রোশনাই ফার্স্ট বয়দের নিয়ে। তারা বড় ইন্সটিটিউশনে পড়বে, সম্মান পাবে, আর শিক্ষান্তে যাদের অধিকাংশ দেশ ছাড়বে কারণ এখানে সেরকম প্রস্পেক্ট নেই। কিন্তু এদেশে পড়ে থাকবে নবিতারাই। যারা পিছিয়ে পড়েছিল কিন্তু হারেনি। তাদের নিয়ে কেউ সেলিব্রেট করেনি, তবুও তারা আছে। আর তাদের জন্য আছে ডোরেমনরা আশা ভরসা যোগাবে তাদের। 
তাই আজও ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠি এই বলে - যে আমার ডোরেমন চাই।
আর মন বলে এই তো আমি, কেন কাঁদ বন্ধু আমি তো ছেড়ে যায়নি। আমরা এক সাথে ভবিষ্যতটা দেখব। একসাথে হাসব। এই তো আমি।
সত্যি এই জন্যই আমার ডোরেমন চাই।