Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Monday, 20 April 2020

ব্যর্থতার দিনলিপি


কি হবে জেনে? কি হয়েছিল তার,
একদিন তো এমনিই যেত সে হারিয়ে
সময় হলেই সব হয়
, আমি কিছু নই

না কি আমিই সব?  নিজের প্রচেষ্টাতেই কি হয় সব?
না
, জানি না তাও
তাই খুঁজে বেড়াই বিকল্প রাস্তার খোঁজ

অর্থহীন পথে বাধাহীন রাস্তায় ঘুরে ফিরি আমি
সময়কে করেছি গুরুত্বহীন
 
মানুষের প্রতি আর কোনও বিশ্বাস বেঁচে নেই


এখন আর বাড়ী ফেরার কোন তাড়া নেই
অন্ধকার রাতে আমাকে দেখে কুকুরগুলোও আর ডাকে না
 
ভেবে সুখ লাগে আর কোন ঝুট ঝামেলা নেই

আসলে আমি মানুষটাই যে আর নেই।। 

সাধারণ মানুষ



পথ হাঁটছিলাম জগতবিষ্ণুর প্রান্তরে
মনে এল হঠাৎ -  মায়া কি ?
প্রশ্ন করলাম তাকে, কিন্তু উত্তর দিলেন না
বদলে পাঠিয়ে দিলেন, এই ধরাধামে
মনুষ্য রূপে জন্মালাম এখানে
এসে অবশ্য প্রশ্নের কথা মনে ছিল না
জগতের রূপ দেখেই যার পরনাই মুগ্ধ
তারপর হঠাৎ একদিন কারা যেন সব কেড়ে নিল
লড়লাম বহুত, কিন্তু লাভ হল না, দেগে দিল এ রাষ্ট্রদ্রোহী
ধীরে ধীরে পরিস্থিতির বদল এল
ভাবলাম এই তো সুখ, নিশ্চিন্ত
কিন্তু জীবনে কি নিশ্চিন্ত হলে চলে
না জীবন তা থাকতে দেয়
বুঝলাম যা ছিল সুখ, আসলে তা ভাঁওতা
আবার লড়লাম, আজও লড়ছি,
কিন্তু আজ আর তেমন প্রাণ নেই
কতকটা যন্ত্রের মতো, আজ আর কিছু বুঝতে পারি না,
সত্যি মিথ্যে চিনতে ভ্রম হয়
এওমন সময় তিনি এলেন
বললেন ওরে চেয়ে দেখ
আমিই রাষ্ট্র , আমিই রাষ্ট্রদ্রোহী
ওহে মূর্খ তুই যাবি কোথায়?

 আজ বুঝলাম এটাই মায়া।

মহাভারতীয় কায়দা-কানুন



- জতুগৃহে যে নিষাদ রমণী ও তার পাঁচজন ছেলেকে কেন পুড়ে মরতে হল?
- সেটা বড় প্রশ্ন নয়, কথা হল আগুনটা কে লাগাল?
  এ নিশ্চয় ষড়যন্ত্র, সিবিআই তদন্তের দাবি তুললাম আমরা

  তা বড় যে দলিত-দরদী ,
এতদিন কি করলে তোমরা?
- আমরা তো কবেই কর্ণকে প্রার্থী করেছি, ও আমাদের দলিত সেলের নেতা।
  মানুষের বিপদের সময় যারা লুকিয়ে পড়ে তারা আবার কোন মুখে বলে কথা ?
- বাজে বকবক করো না, তোমাদের ভয়েই আজ আমাদের কর্মীরা ঘরছাড়া।
  মানুষ জেনে গেছে নারী নির্যাতনের জন্য পরিচিত তোমরা।
- যাদের নিজেদের ঘরের মেয়ে বউকে রাজনীতির বাজি করতেও ছাড়ে না
  তাদের মুখে একথা শোভা পায় না।
- দ্রৌপদী প্রেস বিবৃতেই তো বললেন
  তার অপমানকারীদের তিনি ইঞ্চিতে ইঞ্ছিতে বুঝে নেবেন।

  তরজা চলতে চলতে নরমেধ ভোট পর্ব এল
  বহু মানুষের প্রাণ নিয়ে তা পালিয়েও গেল।
  পাল্টে গেছে সমীকরণ
  তরজা ছেড়ে নতুন রাজাকে বরণ।

- আচ্ছা এই যে এতো বড় ইভেন্ট
  খরচা দেবে কে? সব তো শেষ করে দিয়েছে আগের গভর্নমেন্ট
- কেন চলে যাও উত্তরের দেশে
  প্রচুর সম্পদ হয়েছে তাদের অনেক পরিশ্রম শেষে।
- তো তারা তা দেবে কোন যুক্তিতে ?
- যুক্তি নয়, তারা দিতে বাধ্য দেশভক্তিতে।
  আর অতো কিছু নিয়ে কি হবে তাদের
  দেশ তো একটাই, গোটাটাই আমাদের।

  এরপর অশ্বমেধের যজ্ঞ শেষে
  ক্লান্ত আগুনের সামনে দাঁড়াল সে এসে
  একটা প্রশ্ন করেছিল মাত্র
  সঙ্গে সঙ্গে দেগে দেওয়া হল সে দুর্যোধনের মিত্র
  প্রশ্নটা আজ আর মনে নেই
  তাই কবি খালি দেখে যায়, আর লিখে যায়। 



Thursday, 7 June 2018

সন্ধ্যাবেলায় একলা ছেলে

ঝড় উঠেছে
বাড়ির টগর গাছটা প্রচন্ড জোরে দুলছে ,
পশ্চিমের আকাশটা আসন্ন প্রসবা মোষের মতো হয়ে আছে
জানালা দিয়ে বাইরে দেখি চারদিক যেন ওলট পালট হয়ে যাচ্ছে
হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠল 
বিতনু ফোন করছে
জানি এটা বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলার আমন্ত্রণ
তাই ফোনটাকে বেজে দিতে দিলাম
ভাল লাগছে না কিচ্ছুটি
মনটা যেন গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরের পর অবসন্ন বিকেল
মনও যেন একটা ঝড় চাইছে
ঝরা যত পাতা জমে আছে হৃদয়ের গভীরে
উড়ে যাক সবকিছু
জমাট বাঁধা অন্ধকারগুলো সব ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে
হঠাৎ একটা দুম করে শব্দ
মানুদের বাড়ির নারকেল গাছটা ঝড়ের তোড়ে ভেঙে পড়ল
কেন যে মনের অবাঞ্ছিত দেওয়ালগুলো এভাবে ভেঙে পড়ে না
তাই ভাবি মাঝেমাঝে
এমন সময় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামল
আমার মনের কোনের ময়ূরটাও পেখম তুলেছে
এইবার ভাসিয়ে নিয়ে যাক তো মনের গহনের সব জমা জল আর কান্না
আজ ভিজতে ইচ্ছে করছে
এই বারিসিঞ্চনে যেন অঙ্কুরিত হোক নতুন সৃষ্টির বীজ
বৃষ্টির ছাটেতে ভিজে যাচ্ছে চোখ-মুখ
এক অদ্ভুত শীতলতা আবিষ্ট করছে হৃদয়কে
মনকে নাড়া দিচ্ছে নতুন কিছু স্বপ্ন
আকাশকে ছুঁতে চাইছে মাটির কাছে থেকেও ।
বৃষ্টি থেমে গেছে
সন্ধ্যা নেমে এসেছে
মা ডাকছেন
যাই এবার পড়তে বসি ।

স্বপ্ন সন্ধান

ওরে আজকে ডাক এসেছে
মেঘমল্লারের দেশ থেকে
তাড়িত ধ্বনি আর খুঁজবে না
হারিয়ে যাওয়া নিস্তব্ধতাকে
হাওয়ার তালে মাতবে আজ
এগিয়ে যাবে নীরবের নিরবচ্ছিন্নতাকে ছিন্ন করে
মনের গহন অরণ্যেতে
কাজলচোখা সেই হরিণী
ছুটে চলবে কল্লোলের কলরবে ।
আয় আজকে আমরা সবাই মিলে
ভাসাই চল কাগজের নৌকো
ফিরে যাই ছোট্টবেলায়
সাজাব ঘর নতুন করে
লুপ্ত হৃদয়ের বাঁশি যে আজ
বাজছে যেন নতুন সুরে ,
ওই দেখা যায় নীল আকাশ
সাজিয়ে কত মেঘের পসরা
সবার জন্য মেঘ আজকে
আনবে নতুন বারিধারা ।
সাঁঝবেলাতে উঠবে তারা
গল্প বলবে রূপকথার
লুকিয়ে থাকা দুঃখগুলো
জমবে না আর মনের ভিতর ।
তাই , আজকে হৃদয় মানছে না আর
কোনো বাধার বাধ্যবাধকতা
বলেছে যেন , আয় চলে আয়
সবাই মিলে খেলব মোরা
হারিয়ে যাওয়ার খেলাঘরে ।

Sunday, 20 May 2018

ঘুমের দেশ


ঘুমের ঘোরে স্বপ্নদেশে বলবো কথা আজ সারা রাত 

নতুন করে বাঁচতে চেয়ে  মন সাজতে চাইছে নতুন সাজ 
অর্থহীন এই নীরবতা থাক না আরও কিছুক্ষণ 
ভাবতে লাগছে বড্ড ভাল ঢেউ তুলেছে সুর নতুন 
কান্নাভেজা ঝরা পাতা সঙ্গী করে চলতে চাই
হোঁচট খেয়ে বারে বারে রূপকথারা পথ হারায় 
দুর্বোধ্য সব ইশারাতে হচ্ছে কথা অনর্গল 
ঘড়ির কাঁটা থেমে আছে যন্ত্রপাতি সব বিকল 
ঘর ছেড়েছে বাস্তুসাপ পুরানো ঠিকানার সন্ধানে 
ভোরের বেলার ছোট্ট মেয়ে সব অসুখের ওষুধ জানে
জগতবিষ্ণুর পরপারে রণক্লান্ত অবসরে 
থামবে এসে সব গল্প শেষ হবে নতুন করে।।  


স্বপ্ন কথা








জগতবিষ্ণুর পরপারে বসে আছি 

ঠাহর করতে পারছি এলেম কোত্থেকে 
তারপর হঠাৎ মনে পড়ল
বসে ছিলাম বাড়ির বিছানাতে
বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি পড়ছিল
লোডশেডিংএ চারিদিক অন্ধকার
কখন যেন সে অন্ধকার গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়ে গেছে
খেয়ালই করিনি
একসময় বৃষ্টির শব্দও আর কানে আসছে না
অদ্ভুত এক নৈশব্দ আর নিরালোক গ্রাস করেছে সবকিছু
সেই অন্তহীন তমিস্রার মাঝ থেকে
অনুভব করলাম এক অপার শান্তি
তারপর এক সময় সেই নির্জনতা অসহ্য হয়ে উঠল
কিন্তু চেষ্টা করেও তার মধ্যে থেকে মুক্তি পেলাম না
তারপর তো সেই জগতবিষ্ণুর পরপারে
কিন্তু এখানেও তো আমি একা
সহসা দেখি হরিণীর ন্যায় এক আলো
দ্রুত , উজ্জ্বল অথচ নিদারুণ কোমল
কাছে আসতেই দেখি এতো জিনপরি
সে আমায় হাত ধরে নিয়ে গেল এক জনঅরণ্যে
কিছুক্ষণ পর দেখি কোথায় জিনপরি
আমি তো ভিড়ের মাঝে হারিয়ে গেছি
আর সে কখন দিনের আলোর মতো ভেসে গেছে
এমন সময় চোখে আলোর ঝলকানি লাগে
ঘুম ভেঙে দেখি বৃষ্টি থেমে গেছে
বাইরে তাকিয়ে দেখি একটা হলুদরঙা পাখি
উড়ে গেল বৃষ্টিভেজা আকাশের দিকে
ঠিক সেই জিনপরির মতো।